প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সিলেটাঞ্চলের হবিগঞ্জ জেলায়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সংগঠনটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, সহিংস হামলা, ভাঙচুর ও মূল্যবান মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
থানা ও মামলা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলার আবেদনটি জমা দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক সত্যতা ও আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করে। দায়েরকৃত এই মামলায় এনসিপির ১০ জন শীর্ষ নেতার নাম সরাসরি উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অভিযুক্ত ও আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গৃহবধূর আত্মহত্যা: ভিডিওবার্তা ছড়াতেই চাঞ্চল্য
মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহারে বাদীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সংলগ্ন রাস্তায় এনসিপি ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ রিপন শীলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সমবেদনা জ্ঞাপন, সাক্ষাৎ এবং স্মরণসভায় অংশ নিতে তাদের নেতাকর্মীরা সেখানে জমায়েত হয়েছিলেন। ওই সময় কোনো উসকানি ছাড়াই দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও গুরুতর তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা মাহফুজ চৌধুরী ও মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হন। অভিযুক্তরা লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইট-পাটকেল দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আঘাত হানে বলে এজাহারে বিবরণ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংঘর্ষের সুযোগে বাদীর দামি আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ এবং রক্সি ইসলাম নামের এক কর্মীর নিকট থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আরও পড়ুন: বেনজীরের জামিন বাতিল ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১০ জন নামীয় অভিযুক্ত আসামি হলেন— এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী। এই মামলার পর পুলিশ পুরো ঘটনাটি গভীর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সূত্র: হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
