ব্রেকিং নিউজ

কাঁচা মরিচের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ভারত থেকে আমদানি শুরু

কাঁচা মরিচের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ভারত থেকে আমদানি শুরু
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে টানা অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি সৃষ্টির ফলে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষেত খামারে মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিক উৎপাদনে ধস নেমেছে, যার জেরে দেশের কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচের খুচরা ও পাইকারি মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই কৃষিপণ্যের লাগামহীন দাম সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে আনুষ্ঠানিক কাঁচা মরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

বন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভারতীয় পণ্যবাহী একটি ট্রাকে প্রায় ৯ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বহন করে গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) প্রথম চালান হিসেবে দেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় মরিচের ট্রাক এসে পৌঁছানোর পর কাস্টমস ও বন্দর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিষ্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া মাত্রই ওই আমদানিকৃত মরিচের বিশাল চালানটি সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। প্রথম এই চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে 'শিমু এন্টারপ্রাইজ' এবং বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস ও সরবরাহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে সার্বিক সহায়তা যোগায় 'শিমু শিপিং লাইন্স'।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গৃহবধূর আত্মহত্যা: ভিডিওবার্তা ছড়াতেই চাঞ্চল্য

পণ্য খালাসের গতিশীলতা নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পচনশীল পণ্য হওয়ায় মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে আসা মাত্রই বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক জট এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, চাহিদা মেটাতে ও ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ওপারে আরও বেশ কয়েকটি কাঁচা মরিচ বোঝাই ট্রাক সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষায় রয়েছে, যা ধাপে ধাপে দেশের বাজারে প্রবেশ করবে।

আমদানি প্রক্রিয়ার ব্যয় ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে কাঁচা মরিচ আমদানিকারক শফিক শাহাজান জানান, ওপার থেকে এক কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি করে বাংলাদেশে পৌঁছানো পর্যন্ত ট্যাক্স ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে তার মোট ব্যয় পড়েছে প্রায় ১৩৫ টাকার মতো। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত মুনাফা করার ইচ্ছা তাদের নেই, সামান্য লভ্যাংশ রেখে তারা এই পণ্য বাজারে পাইকারদের কাছে সরবরাহ করবেন। তার মতে, ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়লে খুব কম সময়ের মধ্যে খুচরা বাজারে মরিচের চড়া দাম কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে। তবে কাস্টমস প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে বাড়তি শুল্ক ও মাশুল গুণতে হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমদানিকারকদের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা না থাকলে পণ্য আরও কম খরচে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে পোড়া তেলে খাবার তৈরি: পাবনা দইঘরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সূত্রে প্রকাশ, বাজার মনিটরিং শেষে সরকারের বিশেষ অনুমতি প্রদানের পর ভারতের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চল, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত নাসিক জেলা থেকে এই কাঁচা মরিচ কেনার প্রক্রিয়া চালনা করা হচ্ছে। দেশের বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে প্রথম পর্যায়ে মোট ৬৯ জন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীকে সর্বমোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ দেশে আনার ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) বা আমদানি অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার থেকেই এই পারমিটপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা সক্রিয়ভাবে আমদানির কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ার সংবাদের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যই দেশের খুচরা বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বেনাপোল ও এর পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজারে সোমবার কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচের মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে কমে ৩০০ টাকায় নেমে আসতে দেখা গেছে। বাজারের স্থানীয় বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করছেন যে, ভারত থেকে যখন প্রতিদিন শত শত টন মরিচের ট্রাক বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তখন এই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসটির দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে।

সূত্র: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেনাপোল স্থলবন্দর কতৃপক্ষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন