ব্রেকিং নিউজ

ঈশ্বরদীতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গৃহবধূর আত্মহত্যা: ভিডিওবার্তা ছড়াতেই চাঞ্চল্য

 

ঈশ্বরদীতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গৃহবধূর আত্মহত্যা: ভিডিওবার্তা ছড়াতেই চাঞ্চল্য
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে স্বামী ও শ্বশুরের স্বজনদের বিরুদ্ধে অনবরত শারীরিক নির্যাতন এবং পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার আশঙ্কাজনক অভিযোগ এনে শেষ করুণ ভিডিওবার্তা রেকর্ড করে এক তরুণী গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে ক্যামেরার সামনে ধারণকৃত তার অত্যন্ত করুণ ও আবেগঘন বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাবনা জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু ঘটে। এর আগে রোববার (২ আগস্ট) তিনি নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করালেও শেষ রক্ষা হয়নি।

আরও পড়ুন: পাবনায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩

নিহত ওই তরুণীর নাম মেঘনা খাতুন (২১)। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত চরগড়গড়ি গ্রামের শফি মণ্ডলের ছেলে পেশায় মোটর মেকানিক আজম আলী মণ্ডলের স্ত্রী। নিহত মেঘনার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। বিগত চার বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ফুটফুটে ছেলেসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিয়ের প্রথম কিছুদিন স্বাভাবিক কাটলেও পরবর্তীতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দম্পতির মধ্যে ক্রমাগত পারিবারিক কলহ ও মানসিক অশান্তি লেগেই থাকত। আত্মহত্যার ঠিক আগে ধারণ করা এক সংক্ষিপ্ত ভিডিওবার্তায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেঘনা তার ওপর নেমে আসা অমানুষিক নির্যাতনের বিবরণ দেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তার এই অকালমৃত্যুর জন্য সরাসরি তার স্বামী আজম, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং আসলাম নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি দায়ী।

ভিডিওতে মেঘনাকে বলতে শোনা যায়, স্বামী আজম তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করতেন এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। নির্যাতনের মাত্রা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তার স্বামী নিষ্ঠুরভাবে তার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা পর্যন্ত চালায়। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন এবং স্বামীর উদ্দেশ্যে আকুল হয়ে বলেন, পরিবার ত্যাগ করে যাকে ভালোবেসে এসেছিলেন, তার মানসিক যন্ত্রণার অত্যাচার আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সাধারণ প্রার্থীর মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিলেন জাইমা রহমান

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী আজমসহ তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনার মূল তদন্তের ওপর ভিত্তি করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন