প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম কালজয়ী ও জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ হত্যা মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটেছে। দীর্ঘ তিন দশকের আইনি পরিক্রমায় এবার নতুন মোড় নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় খল অভিনেতা ডন হক। রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি বিশেষ চৌকস টিম এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে আটক ও সিআইডির পদক্ষেপ
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গমনাগমনের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের নজরদারিতে আসেন ডন হক। সেখানে প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে
আরও পড়ুন: যশোরে 'হানি ট্র্যাপ' চক্রের রাজা ও দুই নারী সহযোগী গ্রেফতার
আটক করে থানায় খবর দেয়। ডনের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের সিআইডিতে সালমান শাহ সম্পর্কিত হত্যা মামলা তদন্তাধীন থাকায় খবর পেয়ে সিআইডির একটি বিশেষ দল দ্রুত উপস্থিত হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে নেয়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার সিআইডি সদর দফতরে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ আইনি পরিক্রমা ও মামলার পটভূমি
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজস্ব বাসভবন থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে এটিকে আত্মহনন বা অপমৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা লক্ষ করা গেলেও সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই একে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছিল। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, তারা একাধিকবার সরাসরি হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও থানা পুলিশ তৎকালীন সময়ে ঘটনাটি কেবল 'অপমৃত্যু মামলা' হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। দীর্ঘদিন এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ঢাকা পড়ে থাকলেও সম্প্রতি সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে গৃহকর্ত্রীকে খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার দায়ে ভাড়াটিয়া নারী গ্রেফতার
উক্ত মামলায় সালমান শাহর তৎকালীন স্ত্রী সামিরা হক এবং বহু ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয় করা ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত ও আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিদের তালিকায় নাম উঠে আসার পর থেকেই তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। এবার বিমানবন্দরে দেশত্যাগের প্রাক্কালে বা যাতায়াতের সময় ধরা পড়লেন অন্যতম প্রধান আসামি ডন হক।
ঢালিউডে সালমান শাহ ও ডনের রসায়ন
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আগমন ঘটেছিল প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেন এবং তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের নায়কে পরিণত হন। সেই সময়ে পর্দায় সালমান শাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বা খলনায়কের চরিত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত ডন হককে। বাস্তব জীবনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত হলেও পর্দায় তাদের শত্রুতা দর্শকেরা বেশ উপভোগ করতেন। তবে সালমান শাহর রহস্যজনক প্রয়াণের পর পরিবারের করা বিভিন্ন অভিযোগে ডনের নাম ঘুরেফিরে আসছিল। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কালজয়ী এই নায়কের অকাল প্রয়াণের সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কোটি ভক্ত ও সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা।
সূত্র: বিমানবন্দর থানা পুলিশ ও সিআইডি ঢাকা প্রেস ব্রিফিং।
