ব্রেকিং নিউজ

সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলা, আগুন

সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলা, আগুন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পটভূমিতে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি জ্বালানি তেল স্থাপনায় শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের শক্তিশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। ড্রোন আঘাত হানার পর পরই উক্ত তেল স্থাপনাটিতে দাউ দাউ করে ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি হয়। রবিবার (০৯ আগস্ট) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনায় এই নতুন হামলা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও শঙ্কা তৈরি করেছে।

আল মাসিরাহ টিভির দাবি ও হুথিদের বিবৃতি

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের পরিচালিত নিজস্ব প্রচারমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভিতে প্রচারিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, রবিবারের প্রথম প্রহরেই ইয়েমেনের সশস্ত্র যোদ্ধারা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি 'সৌদি আরামকো'-র একটি তেল শোধনাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ড্রোন হামলাটি চালায়। গোষ্ঠীটি তাদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের তৈরি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনটি সরাসরি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে তাত্ক্ষণিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হুথি বিদ্রোহীরা জানায়, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সাদা এবং হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিচালিত ধারাবাহিক বিমান ও ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিতেই এই বিশেষ পাল্টা প্রতিশোধমূলক অপারেশন চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের সার্বিক নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একই ধরনের আক্রমণ অব্যাহত রাখারও হুমকি দিয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে গৃহকর্ত্রীকে খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার দায়ে ভাড়াটিয়া নারী গ্রেফতার

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ও অগ্নিনির্বাপণ

অন্যদিক, সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন লোহিত সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর জিজানে অবস্থিত তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান 'সৌদি আরামকো' শোধনাগারের একটি নির্দিষ্ট অংশে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ভোররাতের দিকে লাগা ওই আগুন পরবর্তীতে তাদের প্রস্তুত থাকা দক্ষ দমকলকর্মী ও জরুরি ব্যবস্থাপনা দলের দ্রুত ও সফল প্রচেষ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

সৌদি সরকারের প্রেস উইং থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় বা পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রকারের প্রাণহানি কিংবা কোনো নাগরিক ও কর্মচারী হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তেল শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রমেও বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে তারা আশ্বস্ত করেছে। তবুও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিক্রিয়া ও ক্রমাগত হামলা

উল্লেখ্য যে, রবিবারের এই ড্রোন হামলার পূর্বে গত শুক্রবারও সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার একাধিক হামলা পরিচালনা করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। জোড়া হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, কৌশলগত সুযোগ নিয়ে ইয়েমেনি এই দলটি সামনে আরও বড় আকারের সুসংগঠিত হামলা চালাতে পারে।

আরও পড়ুন: আগামীকাল সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল সরকারকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের অন্যতম প্রতিনিধি ও মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের আগের হামলায় সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে সরাসরি আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক কোমলমতি শিশুও রয়েছে।

জোটের মুখপাত্র জেনারেল মালিকি হুথি যোদ্ধাদের আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী আইনের চরম লঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে বলেন, বেসামরিক জনবসতি ও অর্থনীতির মূল ভিত্তিকে টার্গেট করে তারা বেপরোয়া গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। তবে বেসামরিক অধিবাসীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষায় যৌথ জোট সব ধরণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এই বিষয়ে হুথি কিংবা তাদের আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর কোনো কড়া বার্তা পাওয়া যায়নি।

সূত্র: কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন