প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
যশোরে প্রতারণামূলক 'হানি ট্র্যাপ' বা সুন্দরী নারীর ফাঁদ পেতে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। আটককৃত আসামিরা হলো— শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত শীর্ষ প্রতারক রাজা এবং তার দুই নারী সহযোগী বৃষ্টি ও জারা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) গভীর রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে শনিবার (৮ আগস্ট) আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ল্যাপটপ ক্রয়ের প্রলোভন ও জিম্মি করার বিবরণ
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার এক সাধারণ যুবক নিজের ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ বিক্রি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপনী পোস্টটি চক্রের মূলহোতা রাজার নজরে আসলে সে ক্রেতা সেজে ওই যুবকের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপন করে। ল্যাপটপটি নগদে পছন্দ করে ক্রয়ের কথা বলে সে ভুক্তভোগী যুবককে যশোরে আসার জন্য আহ্বান জানায়। রাজায় কথায় আশ্বস্ত হয়ে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে নড়াইল থেকে যশোরে পৌঁছালে আসামিরা তাঁকে কৌশলে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
আরও পড়ুন: আগামীকাল সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল
পরবর্তীতে ঘরে জিম্মি থাকা অবস্থায় জারা ও বৃষ্টি নামের দুই নারীকে ব্যবহার করে ভুক্তভোগী যুবকের সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও সংবেদনশীল ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। এসব স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যুবকের সাথে থাকা একটি ডিসকাভার মোটরসাইকেল এবং সঙ্গে আনা ল্যাপটপটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনা গোপনের শর্তে জিম্মি যুবকের স্বজনদের কাছে ফোনে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে সংঘবদ্ধ চক্রটি। সর্বস্ব হারানোর পর একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বজনেরা বিস্তারিত জানতে পেরে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযান ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ
মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার যুবক কোতোয়ালি মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্তের সূত্র ধরে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় সশরীরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চক্রের মূল হোতা রাজাকে হাতেনাতে আটক করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই নারী সহযোগী বৃষ্টি ও জারাকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আরও পড়ুন: সকালে সন্তানের জন্ম দিয়ে দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষায়
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, ভুক্তভোগী যুবকের দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতের বিচারে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কুখ্যাত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফাঁদ পেতে নির্জন স্থানে পুরুষদের ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে টাকা, বাইক ও মোবাইলসহ দামি মালামাল হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও এ ধরনের প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা পূর্বেও গ্রেপ্তার হয়েছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর এজাহার।
