প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক অনন্য প্রজ্ঞা, অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সকালে হাসপাতালে এক সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সকল শারীরিক কষ্টকে এক পাশে সরিয়ে তিনি সরাসরি পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সামাজিক ও শারীরিক বাধা পেরিয়ে পড়ালেখার প্রতি তাঁর এই গভীর নিষ্ঠা ও একাগ্রতা স্থানীয় অধিবাসী এবং শিক্ষা অনুরাগী মহল জুড়ে নজিরবিহীন প্রশংসা ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চলমান এইচএসসি পরীক্ষার 'সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র' বিষয়ের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন সাহসী এই শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার পার
পরীক্ষার্থীর পরিচয় ও প্রসবকালীন মুহূর্ত
অদম্য মেধাবী এই পরীক্ষার্থীর নাম আন্নাবিউল উম্মি। তিনি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা আজাহার আলীর মেয়ে এবং স্থানীয় কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়মিত এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সকালে হঠাৎ করেই তাঁর প্রসবব্যথা শুরু হলে স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে সফলভাবে তিনি এক সুস্থ ও সুন্দর নবজাতক সন্তানের জন্ম দেন। সদ্য মা হওয়া উম্মি প্রসব পরবর্তী শারীরিক অসুস্থতা ও ক্লান্তি তোয়াক্কা না করে চিকিৎসকের প্রাথমিক সেবা নেওয়ার পরপরই নিজ থেকে পরীক্ষায় বসার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরিবারের সদস্যরা পরীক্ষার্থীর অদম্য আগ্রহ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে দুপুরের নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের অনুমতি সাপেক্ষে পরিবারের সহায়তায় তিনি পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং শত শারীরিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সম্পূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংকটের মাঝে মোদিকে নেতানিয়াহুর তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোন
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পরীক্ষা শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নবজাতকের মা আন্নাবিউল উম্মি বলেন, "সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রম বৃথা যেতে দিতে চাইনি। নিজের শিক্ষা জীবন থমকে যাক—তা কখনোই কাম্য ছিল না। তাই সকল যন্ত্রণা সহ্য করেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি এবং আমার সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ওই দিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। বিশেষ এই পরীক্ষার্থীর শারীরিক ও মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সাথে সাথেই তাঁকে পরীক্ষা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশ করে দেওয়া হয়। সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশু ও তাঁর অদম্য সাহসী মায়ের জন্য ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।
সূত্র: সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র।
