প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক লাফে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ৮২ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কৌশলগত জলপথ সামাল দেওয়ার কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের আইনসভায় শত্রুভাবাপন্ন দেশের বাণিজ্য ও সামরিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের নতুন প্রস্তাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই আন্তর্জাতিক তেল বাজারে এই বড় ধরনের দরবৃদ্ধি ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালি' অতিক্রম করতে না দেওয়ার প্রস্তাব সংবলিত একটি খসড়া আইনি বিল বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ইরানের শক্তিশালী একটি সংসদীয় কমিটি।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার চিত্র
ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম হঠাৎ করেই ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ০৪ ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দিনশেষে ব্রেন্ট ক্রুডের বাজার মূল্য স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৪৯ ডলারে। তেলের বাজারে এক দিনে এত বড় অঙ্কের দরবৃদ্ধি সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংকটের মাঝে মোদিকে নেতানিয়াহুর তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোন
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান সূচক 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' বা ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দরও একইভাবে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই দিনে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৭ ডলার বা ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭ দশমিক ২৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানি সংসদের খসড়া বিল ও জরিমানার কড়া বিধান
ইরানের জাতীয় সংসদীয় কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, প্রস্তাবিত এই নজিরবিহীন আইনি বিলে সুনির্দিষ্ট কিছু কড়া বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যেসব দেশ বা গোষ্ঠী ইরানের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শত্রুতামূলক অবস্থানে রয়েছে, তাদের কোনো জাহাজকে সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কোনো জাহাজ বা পরিবহন সংস্থা এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক উক্ত প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা চালায়, তবে তাদের ওপর ওই জাহাজে থাকা বহনকৃত মালামালের মোট বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিশেষ আইনি বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: অ/স্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার খবর উড়িয়ে বিপুল মজুদের দাবি ট্রাম্পের
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক উপায়ে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন মহাদেশে যাতায়াত করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যেকোনো ধরনের নৌ-অবরোধ কিংবা আইনি কড়াকড়ি বিশ্ব অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply Chain) এক বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনবে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে খনিজ তেলের দাম আরও বহুদূর পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সূত্র: ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা (Fars News Agency) ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার মনিটরিং সেল।
