ব্রেকিং নিউজ

অ/স্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার খবর উড়িয়ে বিপুল মজুদের দাবি ট্রাম্পের

অ/স্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার খবর উড়িয়ে বিপুল মজুদের দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে—আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এমন চাঞ্চল্যকর দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বহরে কোনো ধরনের গোলাবারুদের ঘাটতি তৈরি হয়নি উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাদের অস্ত্রাগারে বরং প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সামরিক রসদ ও কৌশলগত গোলাবারুদ সংরক্ষিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় সাবেক ও বর্তমান এই মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এই খবরকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা ও কারখানার তথ্য

সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে বিশাল পরিমাণের সামরিক গোলাবারুদ ও মিসাইল মজুদ রয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাধুনিক ক্যাটাগরির মারণাস্ত্রের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তাগিদে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কারখানাতেই বিশ্বমানের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং তা সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে নিয়মিত পৌঁছানো হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা কমে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হ/ত্যা: বাদী মেয়ে চাম্পা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

পোস্টে আমেরিকার প্রতিরক্ষা খাতের অভূতপূর্ব অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বর্তমানে আমেরিকান প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সামগ্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন নতুন উৎপাদন কারখানা ও শিল্প প্ল্যান্ট গড়ে তুলছে। এসব আধুনিক কারখানায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত কিংবা বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে সামাল দেওয়ার মতো পূর্ণ সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আমেরিকার রয়েছে বলে তিনি দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদন ও থাড মিসাইলের সংকট

ট্রাম্প সামরিক সংকটের খবর অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে গিয়ে আমেরিকার থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার 'ইন্টারসেপ্টর মিসাইল'-এর প্রায় ৮০ শতাংশই ইতিমধ্যে ব্যবহৃত ও নিঃশেষ হয়ে গেছে। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি নিরাপত্তা প্রাচীর হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সিএনএনের সাথে আলাপকালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার স্বীকার করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী রণক্ষেত্রে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল এবং নির্দিষ্ট কিছু গাইডেড গোলাবারুদের মজুদ এখন অনেকটাই নিম্নমুখী। তাঁদের মতে, বর্তমান উৎপাদন গতির চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের হার কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা মার্কিন পেন্টাগনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তবে পেন্টাগন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই বৈপরীত্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও বর্তমান পরিস্থিতি

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে এক যৌথ সামরিক বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এরপর টানা ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলতে থাকে। রক্তক্ষয়ী এই লড়াইয়ের এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তৈরি হলেও বাস্তবে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা থেমে থাকেনি। ফলে যুদ্ধের তীব্রতায় মার্কিনিদের গোলাবারুদ ও মিসাইল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংস্থা মত প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

যদিও সংঘাত শুরুর প্রথম দিন থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত জোর দিয়ে দাবি করে আসছেন যে, মার্কিন সামরিক শক্তি বা অস্ত্রের ব্যবহারে কোনো প্রকারের ঘাটতি তৈরি হয়নি এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা চূড়ান্ত প্রস্তুত। সার্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল সেদিকেই সতর্ক নজর রাখছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন