প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক / প্রান্ত বাংলা নিউজ
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও দীর্ঘক্ষণ রাখা হয়নি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে তাকে আবারও আদিয়ালা কারাগারের কঠোর প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ আগস্ট শুক্রবার মধ্যরাতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শাফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে। কিন্তু যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে এদিন ভোররাতেই তাকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মাধবদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার
ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হাসপাতাল চত্বর এবং আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কঠোর নজরদারি বলয় গড়ে তোলা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অবিলম্বে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তবে বর্তমান শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল দায়ের করেছিল। সরকার পক্ষের সেই আবেদন গ্রহণ না করে শীর্ষ আদালত পূর্বের নির্দেশনা বহাল রাখেন, যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মধ্যরাতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান। এর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার তোষাখানার মূল্যবান উপহারের তথ্য গোপন সংক্রান্ত বিতর্কিত মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নির্জন কারাবাসে থাকার কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্য এবং পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরেই তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে মেডিকেল পরীক্ষার সুযোগ হলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের কারাগারে ফেরত পাঠানো নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও আদালত সূত্র।
