ব্রেকিং নিউজ

ডায়াবেটিস প্রতি/রোধে বিজ্ঞান, ধর্ম ও সমাজের সমন্বয় জরুরি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডায়াবেটিস প্রতি/রোধে বিজ্ঞান, ধর্ম ও সমাজের সমন্বয় জরুরি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

দেশে ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক ব্যাধি ও শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধে কেবল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কিংবা ওষুধ নির্ভরতা পর্যাপ্ত নয়; বরং এর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অংশীদারিত্বের এক অভূতপূর্ব ও সুদৃঢ় সমন্বিত প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সকালে রাজধানী ঢাকার অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত পরিবর্তন আনতে সমাজের প্রতিটি স্তরের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা ও সামাজিক সচেতনতা

সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সমাজের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন আচরণ ও মানসিক কাঠামো গঠনে ধর্মীয় মূল্যবোধের অপরিসীম ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের সামাজিক পরিমণ্ডলে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার সম্মানিত ধর্মীয় প্রতিনিধিদের কথা মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে। ইমাম, পাদ্রি, ভান্তে এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সমাজপতিরা যদি দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করেন, তবেই নীরোগ ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার চার

তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের ভাতা ও সম্মানির আওতায় নিয়ে এসেছে। তবে এই মেলবন্ধন বা সম্পৃক্ততাকে কেবল ভাতা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এক বিশাল হাতিয়ার হিসেবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের বিশ্বস্ততাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা অনেকাংশে সহজ হবে।

গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক সফল ডেটা উপস্থাপন করে জানান, বাংলাদেশে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সচেতনতাকে কার্যকরভাবে যুক্ত করে আয়োজিত সমন্বিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের সুবাদে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের মধ্যে 'টাইপ-টু' ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই অভূতপূর্ব অর্জনকে বিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব এবং মানব ধর্মীয় বিশ্বাসের এক বৈপ্লবিক যুগলবন্দি হিসেবে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

ড. এম এ মুহিত আরও যোগ করেন যে, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন থেকে গৃহীত ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণা বাস্তবায়ন বিশ্ব দরবারে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে পুরো বিশ্ব জানতে পারবে কীভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশে ধর্মীয় সমাজব্যবস্থাকে দাঁড় করিয়ে মরণব্যাধি সামাল দেওয়া সম্ভব।

সম্মেলনে উপস্থিত দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ

আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ঢাকা রিজিনাল হাবের প্রধান আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রধান প্রফেসর আব্দুল বাসিত সহ প্রখ্যাত দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষকগণ বক্তব্য পেশ করেন। এছাড়া আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টিটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রটেরি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টিটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী। বক্তারা সকলেই বৈশ্বিক মহামারী তুল্য ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র: জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস (BSS) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন