ব্রেকিং নিউজ

ইসরায়েল-ইরান সংকটের মাঝে মোদিকে নেতানিয়াহুর তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোন

ইসরায়েল-ইরান সংকটের মাঝে মোদিকে নেতানিয়াহুর তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি টেলিফোন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। টেলিফোনিক আলাপে দুই শীর্ষ নেতা মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি বিগত কয়েক বছরে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার গড়ে ওঠা বিশেষ কৌশলগত যৌথ অংশীদারত্বের দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতির সার্বিক ক্ষেত্রগুলো গভীর পর্যালোচনা করা হয়। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) নেতানিয়াহুর সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিশেষ বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নরেন্দ্র মোদির বার্তা ও দ্বিপাক্ষিক পর্যালোচনা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া আনুষ্ঠানিক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। তিনি লেখেন, সময়ের সাথে সাথে ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে বিশেষ ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে, তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই প্রধানত তাঁদের মধ্যে এই গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: নড়াইলে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে হা/তুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হ/ত্যা, স্বামীর আত্মসমর্পণ

মোদি তাঁর দেওয়া বিবৃতিতে আরও যোগ করেন যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষামূলক সম্পর্কের পর্যালোচনার পাশাপাশি সমগ্র পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত সাম্প্রতিক থমথমে ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত মতামত আদান-প্রদান করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর এই সরাসরি ফোনকে এশীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও ইসরায়েলের অবস্থান

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির পে প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপের সময়কাল অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত ও ক্ষণে ক্ষণে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক তৎপরতা সামাল দিতে মার্কিন যৌথ অভিযানের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। এমন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থন অক্ষুণ্ন রাখা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতি ভারতের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা নেতানিয়াহু প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকামী ও স্থিতিশীল পরিবেশ সমর্থন করে আসছে। ইরানের সাথে ভারতের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে ইসরায়েলের সাথে নয়াদিল্লির সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই কৌশলগত বার্তা আদান-প্রদান আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের গতিপথ ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

নেতানিয়াহু এবং মোদির এই ফোনালাপ কেবল বর্তমান আঞ্চলিক সংকট সমাধানের আলাপেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রযুক্তি, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা খাতের বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে কীভাবে নতুন মাত্রায় উন্নীত করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভারত এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বরাবরের মতোই বজায় রেখেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: অ/স্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার খবর উড়িয়ে বিপুল মজুদের দাবি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর এই টেলিফোনিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো যে, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বড় আঞ্চলিক সংকটে ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠছে। আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত রাজনীতি কোন রূপ নেয় এবং ভারত কীভাবে এর মধ্যে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO India) ও অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন