প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর সহধর্মিণী প্রিসিলা চ্যান ইউরোপের অন্যতম নয়নাভিরাম দেশ আয়ারল্যান্ডে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক আবাসন সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী এই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের নতুন এই বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রিয়েল এস্টেট বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীন ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে তৈরি সুবিশাল এক দুর্গ এবার যুক্ত হলো এই ধনকুবের দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পত্তির তালিকায়।
আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াটারফোর্ড কাউন্টিতে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা প্রায় ৪৪০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ‘স্ট্রানক্যাল্যি ক্যাসল’ এস্টেটটির মালিকানা গ্রহণ করেছেন জাকারবার্গ পরিবার। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সফরে আয়ারল্যান্ডে অবস্থানের সময় সপরিবারে নিরিবিলি ও আভিজাত্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস নিশ্চিত করাই এই সম্পত্তি ক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে। ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন এস্টেটটি তার নিজস্ব ইতিহাস, সমৃদ্ধ বনাঞ্চল এবং স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্য গোটা ইউরোপে অত্যন্ত সুপরিচিত।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অবস্থিত। ফলে প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক ও করপোরেট মহলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং দাপ্তরিক তদারকির স্বার্থে জাকারবার্গকে প্রায়ই আয়ারল্যান্ড সফর করতে হয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এমন একটি ঐতিহাসিক ও সুরক্ষিত আবাসন নির্বাচনকে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আবাসন বাণিজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসারে আর্থিক চুক্তির সঠিক পরিমাণ জনসমক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা না হলেও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২ থেকে ৩ কোটি ইউরোর কাছাকাছি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৮৩০ সালে নির্মিত এই স্ট্রানক্যাল্যি ক্যাসল মূলত নজরকাড়া গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। পাথরের সুউচ্চ প্রাচীর, নান্দনিক খিলান, কারুকার্যখচিত স্তম্ভ এবং শতবর্ষী বাগানের সমন্বয়ে পুরো এস্টেটটি ঐতিহ্য ও রাজকীয়তার অনন্য নিদর্শন বহন করে চলেছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার: তদন্তে সিআইডি
এই ঐতিহাসিক দুর্গটির প্রাচীন স্থাপত্যরীতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে সেখানে পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়াকে অত্যন্ত আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছে জাকারবার্গ পরিবার। আন্তর্জাতিক ধনকুবেরদের ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার বৈশ্বিক যে ধারা প্রচলিত রয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় ইতিহাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে ঐতিহাসিক এই দুর্গকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট প্রতিবেদন ও মেটা প্রেস উইং।