প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার জগতে প্রতারণার কৌশল ও অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসদুপায় অবলম্বনকারী অসাধু ব্যক্তি সক্রিয় প্রতারণা চক্র গড়ে তুলছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় খাদ্যসামগ্রী কম মূল্যে সরবরাহের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন এক সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়ে কঠোর অভিযানে নেমেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশের বিশেষ দল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে রূপালি ইলিশ বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে সফল অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিগত নজরদারি এবং নিবিড় অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. হাবিবুর রহমান এবং রকিবুল হাসান নয়নকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন জালিয়াতিতে ব্যবহৃত পাঁচটি আধুনিক স্মার্টফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত নগদ ৬০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে নদী ও সাগরের টাটকা ইলিশ মাছের আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও আপলোড করত। সাধারণ বাজারদরের চেয়ে অত্যন্ত সুলভ ও অস্বাভাবিক কম মূল্যে হোম ডেলিভারি দেওয়ার লোভনীয় অফার সাজিয়ে তারা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করত। আগ্রহী ক্রেতারা যোগাযোগ করলে মাছের পার্সেল পাঠানোর শর্ত হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলে অগ্রিম সম্পূর্ণ মূল্য বা বড় অঙ্কের বুকিং ফি পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অর্থ পাওয়ার পরপরই ক্রেতাদের নম্বর ব্লক করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিত এই চক্র।
ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রটি শুধু ইলিশ মাছের মধ্যেই নিজেদের জালিয়াতি সীমাবদ্ধ রাখেনি। তারা বিভিন্ন সময়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি করে এমন নানা ধরনের মূল্যবান পণ্যসামগ্রী অনলাইনে অত্যন্ত সস্তায় বিক্রির প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। এই চক্রের সাথে আরও কোনো সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না এবং চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সর্বমোট কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কোনো ব্যক্তি বা পেজের সত্যতা যাচাই না করে অগ্রিম লেনদেন না করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আটককৃত দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সূত্র: চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলা নথি।