ব্রেকিং নিউজ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তারছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক আকাশপথকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে। বৈদেশিক রুট দিয়ে দেশে ক্ষতিকর ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল সিন্থেটিক মাদক পাচারের বহুমুখী ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। সেই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বড় ধরনের মাদক চোরাচালান চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

শনিবার বিকেলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ছেড়ে আসা থাই এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণ করেন হুসাইন আবদুল কাদের শেখ (৪৮) নামের এক ভারতীয় নাগরিক। বিমান অবতরণের পর যাত্রী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি যখন কাস্টমসের নির্ধারিত গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন, তখন তার সন্দেহজনক চালচলন ও শারীরিক ভাবভঙ্গি কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এয়ারপোর্ট প্রিভেন্টিভ টিম তাকে শনাক্ত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামায়।

আরও পড়ুন: কিডনি দিয়েও বাঁচানো গেল না স্বামীকে: ফরিদগঞ্জে শোকস্তব্ধ এক নারীর মানবিক লড়াই

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই বিদেশি নাগরিক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে ব্যাপক তল্লাশির আওতায় আনা হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর গভীরে কাপড়ের নিচে অভিনব কায়দায় অত্যন্ত গোপনে লুকানো অবস্থায় বিশেষ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর উচ্চমাত্রার হ্যালুসিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিরল ও আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ৩ কেজি ওজনের বিপজ্জনক মাদক ‘কুশ’ শনাক্ত করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের মাদক আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

অভিযান চলাকালে ওই ভারতীয় নাগরিকের ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে তার মূল পাসপোর্ট, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। এই চালানের পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না এবং বাংলাদেশে এই মাদক কাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা উদঘাটন করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী দল।

আরও পড়ুন: রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার: তদন্তে সিআইডি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো সাধারণ মাদক নয় বরং অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং মারাত্মক আসক্তিকর রাসায়নিক উপাদান সমৃদ্ধ। তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা ঠেকাতে বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। আটক হওয়া ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও বিমানবন্দর প্রিভেন্টিভ ইউনিট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন