ব্রেকিং নিউজ

গোবিন্দগঞ্জে পর্নোগ্রাফি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

গোবিন্দগঞ্জে পর্নোগ্রাফি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
 

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

গোবিন্দগঞ্জে গোপনে অসদুপায়ে ভিডিও নির্মাণ ও প্রকাশ: পুলিশি অভিযানে নারীসহ চারজন কারান্তরীণ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক অভিনব ও অপরাধমূলক পর্নোগ্রাফি চক্রের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বাসা ভাড়া নিয়ে অবৈধ উপায়ে ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা এবং তা অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোবیندগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ মোট চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়া নামক একটি আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই চক্রটি আড়ালে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। সাধারণ আবাসিক এলাকায় অপরাধীদের এমন তৎপরতার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের নজরদারিতে আসে। গত শুক্রবার গভীর রাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল গোপন খবরের ওপর ভিত্তি করে ওই বাসভবনে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চক্রের এক সদস্য সটকে পড়তে সক্ষম হলেও মূল সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত দুই নারী ও দুই পুরুষকে ভিডিও ধারণ ও সম্পাদনার কাজে ব্যবহৃত একাধিক স্মার্টফোন, মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল সরঞ্জামাদি সহ হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানের পটভূমি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য

আবাসিক এলাকায় এমন একটি অনৈতিক কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে স্থানীয় লোকজনের মনে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে প্রমাণের অভাবে বিষয়টি সরাসরি প্রকাশ্যে আসেনি। গোবিন্দগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দীর্ঘ সময় যাবৎ পৌর এলাকার হীরকপাড়ার ওই ভাড়া বাসায় একজোট হয়ে বাস করছিল এবং আড়ালে ডিজিটাল মাধ্যমে অশ্লীল সামগ্রী তৈরি করছিল। পরবর্তীতে তারা এসব ভিডিও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এবং বাণিজ্যিক পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দিত। অনৈতিক উপায়ে নির্মিত এসব কনটেন্ট বিক্রি বা প্রচার করে আসামিরা নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে আসছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অভিযান পরিচালনার সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও সংরক্ষণের নানাবিধ সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের মধ্যে একাধিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্মার্টফোন, একাধিক মেমোরি কার্ড এবং ভিডিও ধারণে সহায়ক আনুষঙ্গিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই আটককৃতরা তাদের অপরাধের সত্যতা স্বীকার করেছে এবং কীভাবে তারা অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অপকর্ম সচল রেখেছিল সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

আইনগত ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চারজন সহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অপর এক পলাতক আসামিসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যে বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেছে তা হলো—

১. পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের কন্যা মামুনী আক্তার (২৪)।

২. গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়া এলাকার খোরশেদ আলমের পুত্র রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০)।

৩. সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮)।

৪. সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মামুন অর রশিদ (৩০)।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শনিবার বিকেলে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে মামলায় নাম থাকা অপর পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি নজরদারি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অনৈতিক অপরাধের সামাজিক প্রভাব ও পুলিশের বক্তব্য

প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে একশ্রেণীর অসাদুপায়ী চক্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন অপরাধ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে কৃত্রিমভাবে কিংবা অনৈতিক উপায়ে নির্মিত অশ্লীল ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে অসাধু উপায়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামাজিক নৈতিকতা এবং যুবসমাজের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গোবিন্দগঞ্জের ঘটনাটি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে এবং এ জাতীয় অপরাধ চক্রগুলোর তৎপরতা বন্ধে পুলিশের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মাধবদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক তদন্ত) সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত চক্র হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এসে এখানে একজোট হয়েছিল। এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে অনৈতিক ভিডিও তৈরির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক অপকর্ম দমনে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো স্থানে এ জাতীয় অপকর্মের ন্যূনতম তথ্য পেলেই অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অভিযান চালানো হবে। স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকা এবং আবাসিক এলাকায় নতুন কোনো ভাড়াটিয়া আসার ক্ষেত্রে তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অভিযান শেষ হলেও উক্ত ঘটনার মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা কাজ করছে। উদ্ধার করা মেমোরি কার্ড ও মোবাইল ডিভাইসগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় চক্রের সংযোগ আছে কি না কিংবা দেশের ভেতর ও বাইরে এই ভিডিওগুলোর বিপণন নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত ছিল, তাও উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন। এ ধরনের কঠোর পুলিশি তৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও গোবিন্দগঞ্জ থানা সূত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন