ব্রেকিং নিউজ

তামিম ইকবালের বেঙ্গালুরু সফর ও দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত রূপান্তর

তামিম ইকবালের বেঙ্গালুরু সফর ও দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত রূপান্তর
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামোয় নতুন দিগন্ত: বিসিবি প্রধানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চার ভাগের এক শতাব্দী বা ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও দেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্বমানের হাই-পারফরম্যান্স একাডেমি বা সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত অনুশীলন সুবিধা না থাকায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে প্রায়শই খেলোয়াড়দের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত শূন্যতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল এক যুগান্তকারী ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

ভারতের সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শনে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল

দেশের ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশ ঘটাতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু সফর করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিসিবির সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা এবং বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম। বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রতিনিধি দলটি ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিসিসিআই) নির্মিত নতুন ও বিশ্বমানের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ অবকাঠামোটি সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন: শাহজালালের মাজারের দানের টাকা আত্মসাৎ বন্ধের দাবি

সফরকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা উক্ত কেন্দ্রের ইনডোর ও আউটডোর আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, বিশ্বমানের ক্রিকেট পিচ ও অনুশীলন টার্ফ, হাই-টেক স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ, ক্রীড়াবিদদের দ্রুত চোট মুক্ত করার আধুনিক সুবিধা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, হাই-রেজুলিউশন ভিডিও বিশ্লেষণ ল্যাব এবং দীর্ঘমেয়াদি পাইপলাইন গড়ে তোলার খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিশ্বক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাফল্যের অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করা এই ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা সচক্ষে অর্জন করাই ছিল বিসিবি সভাপতির মূল উদ্দেশ্য।

পূর্বাচলে নির্মিত হচ্ছে দেশের স্বপ্নের ‘জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও একাডেমি’

ভারতের আধুনিক অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ শেষে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে প্রস্তাবিত জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ড প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিসিবি প্রধান মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ-সুবিধা গড়ার ওপর সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছেন। পূর্বাচল প্রকল্পে বিশ্বমানের ইনডোর অনুশীলন কেন্দ্র, সর্বাধুনিক স্পোর্টস ল্যাবরেটরি এবং ফিটনেস রিকভারি সেন্টার যুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যান ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে পর্নোগ্রাফি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এই হাই-টেক ক্রিকেট একাডেমিটি নির্মাণের নকশা পুনর্বিন্যাসের কাজ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘পপুলাস’-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বে বাকি থাকা ৯ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধের জটিলতা দূর করে প্রকল্পের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটির সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ ও বিশ্বমানের একাডেমির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। উল্লেখ্য, এই সুবিশাল ও ব্যয়বহুল মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বিসিবি কোনো বহিরাগত ঋণ বা অনুদানের ওপর নির্ভর করবে না; পুরো অর্থের সংস্থান হবে বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে।

মাঠের জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে স্থায়ী অবকাঠামোর গুরুত্ব

ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়ন দর্শন ব্যাখ্যা করে বিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিগত বছরগুলোতে দেশের ক্রিকেটকে শুধুমাত্র ম্যাচ জয় বা হারের সমীকরণ দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ-সুবিধা তৈরির দিকে নজর ছিল তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সীমিত। একটি জাতীয় দলের তাৎক্ষণিক জয় বা পরাজয় সাময়িক হতে পারে, কিন্তু একটি শক্তিশালী অবকাঠামো বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানের তরুণ ক্রিকেটার তৈরি করতে সক্ষম। মাঠের ফলের পেছনের দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি ও কাঠামোগত ভিত্তি জোরদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে স্বাবলম্বী করে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে।

ভারত সিরিজ ও সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

আসন্ন ক্রিকেট সূচি অনুযায়ী আগামী মাসে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে আসার নির্ধারিত কথা রয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক বার্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এখনও অপেক্ষমাণ। যদিও সফর চলাকালীন কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সংক্রান্ত বৈঠক নিয়ে সরাসরি ঘোষণা আসেনি, তবুও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারণা বিসিবি সভাপতির এই সফরটি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সখ্যতা আরও বৃদ্ধি করবে। বিশ্বমানের প্রশাসনিক সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই বেঙ্গালুরুর এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা অর্জন দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন