প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর উত্তাল স্রোতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া এক তরুণীর প্রাণ রক্ষায় অনন্য মানবিকতা ও সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অমিত হাসান নামের এক তরুণ পুলিশ কনস্টেবল। নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি উপেক্ষা করে তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই তরুণীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শিমরাইল কান্দি রেল ও সড়ক সেতু এলাকায় এই লোমহর্ষক ও প্রশংসনীয় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সদস্যের এমন নিঃস্বার্থ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে একটি অমূল্য প্রাণ, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় জয় করেছে।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে সস্তায় ইলিশের প্রলোভন: অর্থ আত্মসাৎ চক্রের দুই প্রতারক গ্রেপ্তার
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণী পারিবারিক কলহ ও স্বামীর সঙ্গে তীব্র অভিমানের জেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিমরাইল কান্দি ব্রিজের ওপর থেকে হঠাৎ করে নিচে তিতাস নদীর গভীর পানিতে ঝাঁপ দেন। রাতের অন্ধকার ও নদীর প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি তলিয়ে যেতে শুরু করেন। সে সময় ছুটি বা ব্যক্তিগত অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসান। চোখের সামনে কোনো মানুষকে মৃত্যুর মুখে পড়তে দেখে তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধাবোধ করেননি। কালক্ষেপণ না করে নিজের পরনের পোশাক ও বিপদের কথা ভুলে সাথে সাথেই তিতাসের খরস্রোতা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।
অন্ধকার রাতে প্রবল স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতরে তিনি দ্রুত মুমূর্ষু তরুণীর কাছে পৌঁছান এবং তাঁকে শক্ত হাতে ধরে পানির ওপর ভাসিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে নদী দিয়ে চলাচলকারী একটি স্থানীয় নৌকার মাঝিমাল্লাদের সহায়তায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অচেতনপ্রায় তরুণীকে নৌকায় তুলে নিরাপদে নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারের পর মেয়েটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় কালবিলম্ব না করে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের দ্রুত ও নিবিড় পরিচর্যার পর তরুণীটি ধীরে ধীরে বিপদমুক্ত হন ও সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের পর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর অনশন
হাসপাতাল ও থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তি ও ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে ওই নারী আত্মহননের মতো চরম ভুল সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তরুণীকে তাঁর পরিবারের অভিভাবকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিপদের মুখে সাহসিকতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করায় পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসানের এই অনন্য বীরত্বকে জেলা পুলিশ বিভাগসহ সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সাধুবাদ জানাচ্ছে।
সূত্র: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ও হাসপাতাল জরুরি বিভাগ