ব্রেকিং নিউজ

ভালো চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে বাধ্য করা ঝিনাইদহের পঙ্গু রাজনের লোমহর্ষক কাহিনি

ভালো চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে বাধ্য করা ঝিনাইদহের পঙ্গু রাজনের লোমহর্ষক কাহিনিছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়ে চরম প্রতারণা ও মৃত্যুফাঁদের মুখোমুখি হয়েছেন ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেন (২২)। নির্মাণশ্রমিকের উচ্চ বেতনের আকর্ষণীয় চাকরির লোভ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে জোরপূর্বক দাঁড় করানো হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রের একেবারে অগ্রভাগে বা ফ্রন্টলাইনে। সেখানে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় মারাত্মক জখম হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে দেশে ফিরেছেন এই তরুণ। মৃত্যুর মুখ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরে আসা রাজনের লোমহর্ষক বর্ণনা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের এক ভয়ংকর ও নৃশংস রূপ উন্মোচন করেছে।

আরও পড়ুন: ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলায় বাবার মেডিকেল রিপোর্ট: বিচার প্রক্রিয়ায় নাটকীয় মোড়

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাজনকে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দালালচক্র রাশিয়ায় সাধারণ নির্মাণশ্রমিকের কাজের প্রতিশ্রুতি দেয়। মোটা অঙ্কের উপার্জনের আশায় তাঁর পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের হাতে সর্বমোট ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেয়। তবে রাশিয়ায় অবতরণ করার পরপরই রাজনের সেই সোনালী স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চুক্তি অনুযায়ী কোনো সাধারণ কাজে না দিয়ে অস্ত্রের মুখে তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক রাশিয়ার সামরিক ইউনিফর্ম পরিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের চরম ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের প্রথম দিনেই ঘটে চরম বিপর্যয়। ইউক্রেনীয় বাহিনীর অতর্কিত ড্রোন থেকে ফেলা বোমার আঘাতে রাজনের শরীরের নিম্নাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোমরের নিচের অংশ পুরোপুরি অনুভূতিহীন ও অবশ হয়ে পড়ে। চারপাশে তীব্র তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় রণক্ষেত্রে পড়ে ছিলেন তিনি। চরম মৃত্যুভয়ের মুখে অদম্য আত্মিক শক্তির ওপর ভর করে বাঁচার তাগিদে অবশ শরীর টেনে বরফের ওপর বুকে হেঁটে টানা চার দিন ধরে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন রাজন। শেষ পর্যন্ত কোনোমতে একটি প্রত্যন্ত রুশ সামরিক শিবিরে পৌঁছাতে সক্ষম হলে সেখানে প্রাথমিক মানবিক সহায়তা পান তিনি।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে রাতে শিয়ালের অতর্কিত আক্রমণে নারীসহ ৭ জন আহত 

পরবর্তীতে স্থানীয় এক সহৃদয় চিকিৎসকের সহায়তায় মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ও জরুরি হস্তক্ষেপে রাজনকে যুদ্ধক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয় এবং দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সুস্থ-সবল শরীরে দেশ ছেড়ে শেষ পর্যন্ত ক্রাচে ভর দিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন এই যুবক। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া রাজন ও তাঁর কান্নাজড়িত পরিবার এই আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি দালালদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রবাসী কল্যাণ পর্যবেক্ষণ সেল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন