ব্রেকিং নিউজ

পঞ্চগড়ে রাতে শিয়ালের অতর্কিত আক্রমণে নারীসহ ৭ জন আহত

পঞ্চগড়ে রাতে শিয়ালের অতর্কিত আক্রমণে নারীসহ ৭ জন আহতছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে রাতের অন্ধকারে বুনো শিয়ালের অতর্কিত ও হিংস্র আক্রমণে নারীসহ অন্তত সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কয়েকটি সংলগ্ন গ্রামে এই আকস্মিক হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়। হঠাৎ করে লোকালয়ে হিংস্র শিয়ালের এই বেপরোয়া তাণ্ডবে আহত ব্যক্তিদের শরীরে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র শিয়াল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলায় বাবার মেডিকেল রিপোর্ট: বিচার প্রক্রিয়ায় নাটকীয় মোড়

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের সর্দারপাড়া, যমভিটা এবং পার্শ্ববর্তী দেওয়ানহাট সাইরুল মার্কেট এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো ঘটে। প্রতিদিনের মতো প্রাত্যহিক কাজকর্ম শেষে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা যখন নিজ গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন কিংবা স্থানীয় বাজারের মোড়ে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই নিকটস্থ ঝোপঝাড় ও অন্ধকারের আড়াল থেকে কয়েকটি বুনো শিয়াল অতর্কিতে এসে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার সুযোগ পাওয়ার আগেই শিয়ালগুলো এলোপাতাড়ি কামড় ও আঁচড় দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের হাত, পা, কোমর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

এই পৈশাচিক আক্রমণে আহতরা হলেন—সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা, বিপ্লব, রিনা ও মনিরা; যমভিটা গ্রামের আওয়াল ও সৌরভ এবং পার্শ্ববর্তী বসুনিয়া পাড়ার জয়নাল। আক্রান্তদের আকস্মিক চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে বুনো শিয়ালের দল দ্রুত অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ইরান আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহুর চাঞ্চল্যকর দাবি  

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, আহতদের ক্ষতস্থানগুলো যথাযথভাবে ড্রেসিং ও পরিষ্কার করে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জলাতঙ্কের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি প্রতিরোধে প্রত্যেকের শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (টিকা) প্রয়োগ করা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে সকলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাতের বেলায় অযথা বাইরে বের না হওয়ার জন্য এবং চলাচলের সময় লাঠিসোঁটা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন