প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের চরম বৈরিতা ও দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের রক্ষণশীল গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত ‘চ্যানেল ১৪’-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে তেহরান তাঁর দুই ছেলের একজনকে হত্যার জন্য সরাসরি গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। এই স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় ও গভীর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সাক্ষাৎকার প্রদানকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেন, ইরান সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর পরিবারের ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল এবং তাঁর এক সন্তানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে এই কথিত হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি ঠিক কখন, কোন দেশে এবং কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল, সে সংক্রান্ত কোনো বস্তুনিষ্ঠ নথিপত্র, সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা প্রত্যক্ষ প্রমাণ তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে এমন একটি তথ্যের প্রাথমিক পর্যালোচনা সংরক্ষিত থাকলেও বিচারিক আদালতের জারি করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে বিষয়টি ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ৫ হাজার ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই ও সহযোগী গ্রেপ্তার
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ নেতানিয়াহুর এই আকস্মিক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ জনমতকে প্রভাবিত করা এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই দাবিকে সামনে আনা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইরের জন্য সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে সার্বক্ষণিক ভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ইসরায়েলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণেই এমন সংবেদনশীল প্রসঙ্গ টানা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মনোহরদীতে নিজ ঘরে অটোরিকশাচালক যুবককে কুপিয়ে হত্যা
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের সামরিক টানাপোড়েন যখন অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে রয়েছে, তখন রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহুর এই নতুন বয়ান আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণ ডেস্ক