প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকের আড়ালে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম ও তাঁর এক সহযোগীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের হেফাজত থেকে সর্বমোট ৫ হাজার ৩১০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মরত সদস্যের মাদক সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর পুলিশ বিভাগে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক পরিচয়ে জানা গেছে, এএসআই শফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার মাঝিরা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। অন্যদিকে তাঁর সহযোগী ওয়াসিম কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানাধীন তালভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: মনোহরদীতে নিজ ঘরে অটোরিকশাচালক যুবককে কুপিয়ে হত্যা
মামলার এজাহার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী ওয়াসিম দক্ষিণখানের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নুর বিল্ডিংয়ের নিচতলার এ-ওয়ান ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসার নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রথমে ওই ভবনের সামনে থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ওয়াসিমকে আটক করে। তল্লাশিকালে তাঁর পরনের প্যান্টের পকেট থেকে জিপার ব্যাগে রাখা ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওয়াসিমের দেওয়া তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল ওই ফ্ল্যাটে দ্রুত অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এএসআই শফিকুল ইসলাম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সতর্ক পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত ঘিরে ফেলে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা একটি কালো ব্যাগের ভেতর থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর ফ্ল্যাটের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শয়নকক্ষের কাঠের ড্রয়ার থেকে বিভিন্ন পলিপ্যাকে সাজানো ১ হাজার ৪৮০ পিস এবং অপর একটি চেম্বার থেকে ৩ হাজার ৫৮০ পিসসহ মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানীর দক্ষিণখান, উত্তরা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় মাদক ও নগদ অর্থসহ তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি মোহন গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির নিশ্চিত করেছেন যে শফিকুল ইসলাম তাঁর থানায় এএসআই হিসেবে পদায়ন পাওয়ার পর মাত্র আট থেকে দশ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর থেকে কোনো প্রকার ছুটি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের নীতি অনুযায়ী অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানা প্রশাসন