ব্রেকিং নিউজ

গাজা থেকে কাগজের ঘুড়ি ওড়ানোকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করবে ইসরায়েল

গাজা থেকে কাগজের ঘুড়ি ওড়ানোকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করবে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে এবার এক চরম বিতর্কিত ও আগ্রাসী অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। গাজা সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে সাধারণ কাগজের ঘুড়ি কিংবা বেলুন উড়ে আসাকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ বা অ্যাক্ট অব ওয়ার হিসেবে বিবেচনা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেলআবিব প্রশাসন। সাধারণ খেলনাসামগ্রীকে আধুনিক সামরিক সমরাস্ত্রের সমতুল্য শত্রুভাবাপন্ন হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই নজিরবিহীন ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাইবার হামলা: নেপথ্যে মার্কিন ঘাঁটির ব্যবহার ও ইরান উত্তেজনা

চলমান আগস্ট মাসের সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজা ভূখণ্ডের সীমান্তবর্তী কাঁটাতার অতিক্রম করে বেশ কিছু সাধারণ রঙিন কাগজের ঘুড়ি ইসরায়েলি বসতি সংলগ্ন উন্মুক্ত অঞ্চলে এসে পড়ে। এর পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কড়া সামরিক নির্দেশনা জারি করেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ-কে সীমান্ত পেরিয়ে আসা যে কোনো বস্তুকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস এবং উৎস লক্ষ্য করে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, বাতাসে ভেসে আসা একটি কাগজের ঘুড়ি বা বেলুন কোনো নিরীহ বস্তু নয়, বরং এগুলোকে সামরিক ড্রোনের সমতুল্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এমনকি এসব ঘুড়িতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক, দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র সংযুক্ত না থাকলেও তা সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই গণ্য হবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধান ও কারিগরি দল নিশ্চিত করেছে যে সীমান্ত অতিক্রম করা ঘুড়িগুলোতে কোনো প্রকার বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল না। 

তা সত্ত্বেও সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের চরম রাজনৈতিক চাপের মুখে তেলআবিব সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে লক্ষ্য করে ৭২ ঘণ্টার এক চরম সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তারা হুমকি দিয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে ফিলিস্তিনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্যভিত্তিক গুপ্তহত্যা এবং গাজার আরও বিস্তীর্ণ বেসামরিক আবাসিক এলাকা সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করার অভিযান শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ক্রেনের চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরায়েলি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও সাজানো নাটক হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার বিভিন্ন বাস্তুচ্যুত শরণার্থী শিবিরে মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে থাকা অবুঝ শিশুরা কেবল মানসিক স্বস্তি ও ক্ষণিকের খেলাধুলার ছলে এসব কাগজের ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। কিন্তু চরম সামরিক উন্মাদনায় লিপ্ত ইসরায়েল শিশুদের নিষ্পাপ বিনোদনকেও যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। মূলত গাজার নিরীহ জনগণের ওপর নতুন করে বর্বরোচিত বিমান হামলা ও গণহত্যা চালানোর আন্তর্জাতিক অজুহাত সৃষ্টির লক্ষ্যেই তেলআবিব এমন ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে বলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণ ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন