ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাইবার হামলা: নেপথ্যে মার্কিন ঘাঁটির ব্যবহার ও ইরান উত্তেজনা

যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাইবার হামলা: নেপথ্যে মার্কিন ঘাঁটির ব্যবহার ও ইরান উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় এবার এক ভয়াবহ সাইবার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান বাহিনীকে বিতর্কিত অভিযানের সুযোগ দেওয়ার পরপরই যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তীব্র সাইবার হামলা সংঘটিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরান সমর্থিত একটি শক্তিশালী হ্যাকার চক্র এই সমন্বিত সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ব্রিটেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার একটি সংবেদনশীল অংশকে টানা চার দিন ধরে পুরোপুরি অচল করে রাখতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি এক নতুন ডিজিটাল যুদ্ধের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশটির আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমোদন অব্যাহত রাখে। লন্ডনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে এই ঘাঁটিগুলো কেবল সীমিত পরিসরে আকাশপথের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ বা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায় যে তেহরানের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব কিংবা ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যে কোনো দেশের মাটি বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহৃত হলে সেটিকে তারা সরাসরি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।

এই তীব্র কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অবকাঠামোটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা। অত্যন্ত জটিল ম্যালওয়্যার ও সাইবার কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও টারবাইন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে বিকল করে দেওয়া হয়। চার দিনব্যাপী এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং শক্তি নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। যদিও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলার কারণে দেশটির সামগ্রিক জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি, তবুও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ফিফার সবুজ সংকেত: এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন হিসেবে অভিহিত করেছেন। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ, পানি ও জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ক্রমাগত ইরানপন্থি সাইবার নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। যুক্তরাজ্যের মাটিতে এই সফল সাইবার অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে যে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে ইরান এখন উন্নত ডিজিটাল ও হাইব্রিড যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে সরাসরি পশ্চিমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ ভূখণ্ডে অবস্থিত সবকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংবেদনশীল জ্বালানি স্থাপনায় সর্বোচ্চ স্তরের সাইবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন