ব্রেকিং নিউজ

ফিফার সবুজ সংকেত: এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

ফিফার সবুজ সংকেত: এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দলছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য তৈরি হয়েছে এক নতুন ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্ভাবনার দুয়ার। বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) আনুষ্ঠানিক সম্মতি লাভের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন একটি সম্মানজনক প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশের ক্রীড়ামহলে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এক আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়। বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিশ্চিত করে জানান যে, আন্তর্জাতিক এই আসরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার কাছে যে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছিল, তাতে সম্পূর্ণ সম্মতি মিলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরের সব ধরনের নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফিফার ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পরপরই বাফুফেও টুর্নামেন্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের অংশগ্রহণ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নুরুল হক নুরের কঠোর মন্তব্য

টুর্নামেন্টের বিস্তারিত সময়সূচি এবং কাঠামো পর্যালোচনা করে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের এই ফুটবল মহারণটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াবে এবং ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে মোট চৌদ্দটি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং পুরো আসরটিকে দুটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে শীর্ষ বা প্রিমিয়ার ডিভিশনের স্বাগতিক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রিমিয়ার বিভাগে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় মূলত আঞ্চলিক একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও গত ১৩ আগস্ট তারা নিজেদের নাম টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে যে শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে খেলার সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বাফুফে কালবিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দ্রুততম সময়ে ফিফার অনুমোদন লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে দেশের ফুটবলারদের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী এশিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নামার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত দক্ষতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল দলগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গতি, ফিটনেস ও আধুনিক ট্যাকটিকসের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি প্রদর্শন করেছে। ফলে এমন একটি উচ্চমানের টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া জামাল ভূঁইয়া-তপু বর্মনদের জন্য আগামী দিনের বিশ্বকাপ বাছাই ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পথকে আরও মসৃণ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপের অভিযোগ: লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজের বিভাগীয় প্রধান অব্যাহতি

আসন্ন এই মহাদেশীয় লড়াইকে সামনে রেখে এখন থেকেই জাতীয় দলের প্রয়োজনীয় অনুশীলন ক্যাম্প, টেকনিক্যাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে ফেডারেশন ও কোচিং স্টাফ। দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার সেরা নিদর্শন প্রদর্শন করে দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে আনবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবলের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।

সূত্র: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাহী সভা বিবরণী ও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন