প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
পারিবারিক সম্পর্কের অবক্ষয় এবং ব্যক্তিগত বিরোধ যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন তা সামাজিক ও আইনগত পরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার জন্ম দেয়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে পারিবারিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। সরাসরি থানা কম্পাউন্ডের সামনে ঘটে যাওয়া এই সহিংসতায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপে নামে পুলিশ প্রশাসন এবং তাদের তৎপরতায় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, উপজেলার আলগী ইউনিয়নের অন্তর্গত বালিয়াচরা গ্রামের একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ জটিলতা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ওই গ্রামের বাসিন্দা একরাম আলীর স্ত্রী পূর্ণিমার সঙ্গে তার আপন ছোট ভাই আব্দুল্লাহর অনৈতিক ও আবেগীয় সম্পর্কের বিকাশ ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক একপর্যায়ে চরম রূপ নেয় এবং পারিবারিকভাবে তা তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার ভোরে পরিবারের অজান্তে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে গৃহবধূ পূর্ণিমা ও দেবর আব্দুল্লাহ আত্মগোপনে চলে যান। তারা রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী সাভার এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরবর্তীতে ওই নারীর পিতা ও বড় ভাই প্রযুক্তি এবং নিজস্ব সন্ধানের মাধ্যমে সাভারে তাদের অবস্থানের সন্ধান পান। শনিবার দুপুরে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে মীমাংসা ও আইনি প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির
থানা চত্বরে পৌঁছানোর পর উভয় পরিবারের সদস্যরা মুখোমুখি হলে তীব্র বাদানুবাদ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, থানা ভবনের প্রবেশদ্বারের সামনেই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া এবং আগের ঘটনার বিচার দাবি করা নিয়ে দুই ভাই এবং তাদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কথা-কাটাকাটি রূপ নেয় শারীরিক সংঘাত ও হাতাহাতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে শুরু হওয়া এই ধস্তাধস্তিতে নারীসহ পাঁচজন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ভূমিকার বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সংক্রান্ত জটিলতার জেরে থানার ফটকের সামনে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা ও ঝগড়া শুরু হয়েছিল। থানা চত্বরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করেন। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সামগ্রিক বিষয়ের আইনানুগ তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নুরুল হক নুরের কঠোর মন্তব্য
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সামাজিক যোগাযোগের অপব্যবহারের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পারিবারিক সংকট ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনকে নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো পারিবারিক বিরোধ সুষ্ঠু সামাজিক সমাধান কিংবা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করাই নাগরিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান উপায়। ভাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণী।