ব্রেকিং নিউজ

ইরান-মার্কিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ বার্তা

ইরান-মার্কিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রতিবেদন:সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্বমঞ্চে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে গোপন ও সরাসরি আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জোরালো দাবি করা হলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরান বর্তমানে একটি বড় সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছে এবং একটি নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরানের জন্য এটাই ‘শিরশ্ছেদের পূর্বে শেষ সুযোগ’। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমেরিকার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে বিশ্ব গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতা ও অনুরোধের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বিপরীতে গত ৩ আগস্ট সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে তাদের কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বা কূটনীতি চলছে না। তেহরানের এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর ট্রাম্প পুনরায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, উভয় পক্ষ ইতিমধ্যেই টেবিলে কথা বলছে এবং একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত সমঝোতায় সই করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা তেহরানের জন্য চরম ভুল হবে।


আরও পড়ুন: ভয়ের সংস্কৃতি চালু নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ও সিলেট সফর

মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত আলোচনায় বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় অবাধ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি প্রধান অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথটি খুব শীঘ্রই এবং যেকোনো মুহূর্তে খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা ও স্থায়ী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করার আইনি প্রক্রিয়াটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যৌথভাবে ইরানের একাধিক কৌশলগত অবকাঠামোতে হঠাৎ সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই অঞ্চলটিতে সামরিক সঙ্ঘাত তীব্র রূপ নেয়। যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস অতিক্রম করলেও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পাশাপাশি তেহরানের নিকট উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও বহাল রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ।


আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অপপ্রচারে বিদ্যুৎ বিভাগের কড়া হুঁশিয়ারি

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠক করছে না; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় বৈঠক চলছে। ট্রাম্পের অবস্থানের সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে, যা বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর দৃষ্টি এখন হরমুজ প্রণালির দিকে নিবন্ধিত করেছে।

সূত্র: হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন