ব্রেকিং নিউজ

পাবনায় অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার ও ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার

পাবনায় অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার ও ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

পাবনা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এক অপহরণ ঘটনার সফল ও দ্রুত যবনিকাপাত ঘটেছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় মুক্তিপণের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে এক কিশোর স্কুলছাত্র। পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস ও যৌথ দল অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু ভিকটিমকে উদ্ধারই করা হয়নি, বরং ঘটনাস্থল থেকে একটি সংগঠিত জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব (১৫) পাবনা মহিম চন্দ্র জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর উপজেলার অধীনস্থ দিলালপুর বেলতলা রোড এলাকায় এক সুনির্দিষ্ট স্থানে ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশের যৌথ টিম। ওই এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় কিশোর ইন্দ্রজিৎকে হাত-পা বেঁধে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যেখানে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মিকারীরা পলায়নের চেষ্টা চালায়, তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়।

ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, অপহৃত কিশোরকে কৌশলে জিম্মি করার পর অপহরণকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। চক্রটি ভিকটিমের পরিবারের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে বসে। শুধু দাবি জানিয়েই শান্ত থাকেনি তারা, টাকা না পাঠালে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানালে অপহৃত কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হবে বলেও ভয়াবহ হুমকি প্রদান করতে থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অপহৃতের পরিবার আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে সহায়তার আবেদন জানান।

আরও পড়ুন: বেনজীরের জামিন বাতিল ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পাবনা জেলার পুলিশ প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নেমে পড়ে। পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সদর থানা পুলিশের দক্ষ অফিসারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ যৌথ টিম অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করে। সূক্ষ্ম নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গোপন ড আস্তানা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর দিলালপুর বেলতলা রোড এলাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করে ডিবি ও সদর থানা পুলিশ। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে জিম্মি দশা থেকে ইন্দ্রজিৎকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয় এবং পালানোর চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকেই মুক্তিপণ চাওয়া চক্রের পাঁচ সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পাবনা জেলা পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে কেবল ওই পাঁচজনই যুক্ত ছিল না; বরং এই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আরও একাধিক অপরাধী সক্রিয় রয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটির পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে অপহরণ, বেআইনি জিম্মি রাখা, জীবননাশের হুমকি প্রদান এবং মুক্তিপণ দাবির প্রাসঙ্গিক সব কঠোর আইনি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। উক্ত এজাহারে পাঁচজন গ্রেপ্তারকৃত আসামির পাশাপাশি আরও দুইজন নামীয় এজাহারভুক্ত আসামি এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম প্রকাশ্য ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মামলায় উল্লিখিত পলাতক দুই প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশের বিশেষ টিম শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চিরুনি অভিযান ও ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবং শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরিবারের দায়িত্বে হস্তান্তর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

সূত্র: জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ, পাবনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন