ব্রেকিং নিউজ

হরমুজ প্রণালি চুক্তি আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন

হরমুজ প্রণালি চুক্তি আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন

                                                                                ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইতি ঘটিয়ে কৌশলগতভাবে অতি সংবেদনশীল 'হরমুজ প্রণালি' পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যাপারে একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্রুত চুক্তির এমন বার্তা আসার পরপরই বিশ্ববাজারে কাঁচামাল সরবরাহের যে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত হয়ে তেলের দাম নিমেষেই নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, কৃতিত্ব জনগণের: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্যে দৃশ্যমান এই দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির জের ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে কাঁচা তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার এই ইতিবাচক কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাজার ব্যবস্থাপনায় একধরনের স্বস্তি ফিরে আসে এবং বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।

আমেরিকান ও ইউরোপীয় প্রধান তেলসূচকগুলোতে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের প্রধান রেফারেন্স মানদণ্ড 'ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট' (ডব্লিউটিআই)-এর আন্তর্জাতিক চুক্তিভিত্তিক দর এক লাফে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। দরপতনের পর বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই তেল বিক্রি হচ্ছে ৭৬ দশমিক ৩২ মার্কিন ডলারে। অপরদিকে, বিশ্ব বাজারের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক 'ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড'-এর দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: ইনফান্তিনোর ওপর বাড়ছে অনাস্থা: ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার ৪ দেশের

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের একটি বিরাট অংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসানে যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের ধারাবাহিক জোগান স্বাভাবিক হবে। এতে করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের শঙ্কা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন