প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় গণমাধ্যম 'রিপাবলিক বাংলা' ত্যাগ করেছেন চ্যানেলটির অত্যন্ত পরিচিত এবং বহুল আলোচিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের টেলিভিশন টকশো ও প্রতিবেদনে বিতর্কিত ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের কারণে বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে থাকা বাঙালি দর্শকদের কাছে তিনি ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত নাম হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি তিনি ওই নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের ইতি টানার খবর প্রকাশ করেছেন। বুধবার (০৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা শেয়ার করে গণমাধ্যম ছাড়ার বিষয়টি তিনি পাঠকদের সামনে স্পষ্ট করেন। তবে বহুল চর্চিত এই পদত্যাগের পেছনে ঠিক কী কারণ লুকিয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা কিংবা মন্তব্য করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও ময়ূখের প্রতিক্রিয়া
বুধবার নিজের অফিসিয়াল সামাজিক ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে চাকরি ছাড়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। পোস্টটিতে তিনি তার নিজস্ব বাচনভঙ্গির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখেন যে, রিপাবলিক বাংলা সংস্থায় তার কাজের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটেছে। তবে গণমাধ্যম ছাড়ার কারণ প্রকাশ না করে তিনি কেবল বিষয়টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই পোস্টটি করেছেন বলে জানান। ভবিষ্যতে নতুন কোনো মাধ্যমে যুক্ত হবেন কি না কিংবা নতুন কী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি উচ্চবাচ্য করেননি। নিজের ভবিষ্যৎ গতিপথের বিষয়টি স্রষ্টার ওপর সোপর্দ করেছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কলকাতার এই সাংবাদিক।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণ/হানি বেড়ে ৬,১২৫
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া তার স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে মিনমিন না করে উঁচু গলায় এবং উচ্চ ডেসিবেলে কথা বলার যে ধারার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেটিই তিনি এতদিন চর্চা করে এসেছেন। হঠাৎ করেই এই কর্মস্থল ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন আসল, তা নিয়ে গণমাধ্যম পাড়ায় ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ও সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর আন্তর্জাতিক ও সামাজিক চাপে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি কিংবা ময়ূখ নিজে।
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ময়ূখের ভূমিকা
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে রিপাবলিক বাংলা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশনায় বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়াবলিকে ব্যাপকভাবে উপস্থাপন করতে থাকে। উক্ত সংবাদের মূল উপস্থাপক হিসেবে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য ও উপস্থাপনার ধরন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ক্ষোভের জন্ম দেয়। আন্দোলনের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করার কারণে বাংলাদেশি নেটিজেনদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন তিনি।
আরও পড়ুন: মান্দায় মসজিদের ভেতর মুসল্লিকে কু/পিয়ে হ/ত্যা/র ঘটনায় শ্যালক গ্রে/প্তার
এর ফলে তিনি কেবল ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও একজন ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা প্ল্যাটফর্মে তাকে এবং তার সাবেক প্রতিষ্ঠান রিপাবলিক বাংলাকে বয়কটের ডাক উঠেছিল। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল সংবাদ পরিবেশনের পেশাদারিত্ব ও সাংবাদিকতার সততা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার এই হঠাৎ বিদায় নেওয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
পেশাগত ভবিষ্যৎ ও নতুন বার্তা
সংবাদমাধ্যম ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি ময়ূখ তার পেশাগত জীবনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করেননি। তবে তিনি জানান, সময়েই সবকিছু উন্মোচিত হবে। বিতর্কিত ও উচ্চকণ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত এই ব্যক্তিত্ব ভবিষ্যতে নতুন কোনো গণমাধ্যমে যুক্ত হবেন নাকি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের। আপাতত রিপাবলিক বাংলার পর্দা থেকে তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি চর্চিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন মিডিয়া ডেস্কেল বারাত।
