প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নতুন করে উত্তেজনা বাড়ান, তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইউরোপীয় ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবছে।
টার্গেটে বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস ও সমুদ্রতলদেশের অপটিক ফাইবার
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়াকে বেছে নিতে পারে তেহরান। দেশটি সম্প্রতি তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সংগ্রহের (Refueling) বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছে।
আরও পড়ুন:গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬; অস্ত্র সমর্পণ না করলে পুনর্গঠন নয়: কুশনার
এছাড়া তালিকায় রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ সাইপ্রাসও। এর আগে দেশটিতে অবস্থিত ব্রিটিশদের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার নজির রয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন করার রণকৌশলও হাতে নেওয়া হয়েছে।
ভেস্তে গেছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদের সমঝোতা
টানা ৪০ দিনব্যাপী তীব্র সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' নামে পরিচিত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
বর্তমানে নতুন করে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের শীর্ষ সামরিক পদে কট্টরপন্থীদের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে তাদের কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না।
আইআরজিসির কড়া বার্তা ও দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক কড়া সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, এবার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালালে লড়াই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দূরের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতেও তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:হরমুজ প্রণালী দখলের চেষ্টা করলে ট্রাম্পের পা ভেঙে দেওয়া হবে: ইরানের সেনাপ্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি
সংঘাতের শুরুর দিকেই ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিজেদের সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছিল তেহরান। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে নিখুঁত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটিয়ে দূরপাল্লার আক্রমণের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ইরান। ফলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে এক বড় ধরনের বৈশ্বিক যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক মনিটরিং সেল।
