প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো এক বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় অন্তত ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা অ্যারাবিকের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় জরুরি স্বাস্থ্য ও অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিগত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েই এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটল।
হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজা পুনর্গঠন নয়: কুশনারের হুঁশিয়ারি
এদিকে গাজার ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তাদের যাবতীয় অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকাকে কোনোভাবেই পুনর্গঠন করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী দখলের চেষ্টা করলে ট্রাম্পের পা ভেঙে দেওয়া হবে: ইরানের সেনাপ্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি
চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গাজা শান্তি পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। তবে উভয় পক্ষের মতপার্থক্যের কারণে এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমাধান বা ব্রেকথ্রু আসেনি। নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে তাদের ভারী ও হালকা সব ধরনের অস্ত্র সমর্পণ করে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে। অপরদিকে হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অস্ত্র জমাদানের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে গাজা উপত্যকা থেকে দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, "গাজা পুনর্গঠনের জন্য আমাদের হাতে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উপত্যকাটির সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই পুনর্গঠনের অনুমতি দেব না। এমন কোনো স্থানে আন্তর্জাতিক অর্থ ঢালা হবে না যার নিয়ন্ত্রণ পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায় কিংবা ইসরায়েল তা পুনরায় ধ্বংস করে দেয়।"
আরও পড়ুন: অ/স্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার খবর উড়িয়ে বিপুল মজুদের দাবি ট্রাম্পের
ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে কুশনার আরও উল্লেখ করেন, সামনে কোনো সরাসরি হুমকি থাকলে ইসরায়েলকে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিরত রাখবে না। হামাস শর্তসাপেক্ষে অস্ত্র হস্তান্তরে নীতিগত সম্মতি জানালেও আগে কে পদক্ষেপ নেবে—সেনা প্রত্যাহার নাকি নিরস্ত্রীকরণ—এই জটিল শর্তের দ্বন্দ্বে গাজার টেকসই শান্তি ও যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা অ্যারাবিক, ফক্স নিউজ ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
