ব্রেকিং নিউজ

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রি, আটক বাবা

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রি, আটক বাবাছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

শখের দামি আইফোন কেনার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জন্মদাতা পিতাই মাত্র দেড় বছর বয়সী নিষ্পাপ কন্যাসন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার এক লোমহর্ষক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত পাষণ্ড পিতা মো. মারুফ মুন্সিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে বিক্রি করে দেওয়া দেড় বছরের শিশু মুসাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। সন্তানের বিনিময়ে বিলাসবহুল মোবাইল কেনার এমন বিবেকহীন ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

আরও পড়ুন: ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন: আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতিতে চরম সংকটে জনজীবন

পারিবারিক ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা মারুফ মুন্সি শনিবার সকাল আটটার দিকে তাঁর মা মাহমুদা বেগমকে ডেকে দেড় বছরের ছেলে মুসাকে সুন্দর পোশাক পরিয়ে দিতে বলেন। বাজারে একটু ঘুরিয়ে আনার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সারাদিন পার হয়ে সন্ধ্যা নামলেও বাবা-ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়েন এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরবর্তীতে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে মুঠোফোনে দীর্ঘ যোগাযোগের পর মারুফ একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তিনি ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন এলাকার ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে নগদ এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান বিক্রির সেই অর্থ হাতে পাওয়ার পরপরই মারুফ দ্রুত রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান এবং তাঁর পুরোনো ফোনটি বদলে এক লাখ টাকা দিয়ে একটি চকচকে আইফোন কেনেন। ঢাকায় গিয়ে মোবাইল কিনে তিনি পুনরায় নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।

মারুফের ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসার গোপন তথ্য পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে আটক করে। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তান বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সন্তান ক্রেতা ইমরানকে কৌশলে থানায় তলব করে কঠোর চাপ প্রয়োগ করলে ইমরান জানান যে শিশুটিকে পাশের গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তাঁর শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় শিশু মুসাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুন: মসজিদের কক্ষ থেকে তরুণ মুয়াজ্জিনের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার 

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত বাবাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া শিশু মুসাকে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁর দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের নিরাপদ জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দশমিনা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন