ব্রেকিং নিউজ

কুরআনের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ও বাস্তব আমল ছাড়া কল্যাণ অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমান

কুরআনের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ও বাস্তব আমল ছাড়া কল্যাণ অসম্ভব: ডা. শফিকুর রহমানছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

মানবসত্তার আত্মিক পরিশুদ্ধি, সামাজিক সুবিচার এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি হলো পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সার্বজনীন শিক্ষা। কুরআন ও রাসুলুল্লাহর (সা.) নির্দেশিত সুন্নাহর গভীর ও নির্ভুল জ্ঞান অর্জন ব্যতীত মানবজাতি কখনোই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনে ঐশী নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, গোঁড়ামি এবং আত্মকেন্দ্রিক চিন্তাধারার ঊর্ধ্বে উঠে উদারতার সঙ্গে সত্য ও কল্যাণের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি সচেতন মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব।

রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে তা’লীমুল কুরআন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের এক প্রতিনিধি সম্মেলনে এ বিষয়ে বিশদ আলোকপাত করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অন্ধকার, অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে কুরআনকে কেবল তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অন্তর্নিহিত দর্শন ও অনুশাসনকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার চার

সমাবেশে উপস্থিত দায়িত্বশীল ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে, দাওয়াত বা কল্যাণের আহ্বান কখনোই নিছক মুখের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র, ব্যবসায়িক লেনদেন, সামাজিক আচরণ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শকে বাস্তব রূপ দিয়ে শ্রেষ্ঠ চরিত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। কারণ মানুষ মুখের কথার চেয়ে বাস্তব আচার-আচরণ ও নৈতিক চরিত্র দ্বারা অধিক প্রভাবিত হয়।

কুরআনিক শিক্ষার বিশুদ্ধতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখা, প্রতিটি আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবন করা এবং সেই অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করার আন্তরিক আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, গভীর উপলব্ধি ও কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান মানুষের অভ্যন্তরীণ অহংকার ও ভ্রান্তি দূর করতে সক্ষম নয়। জ্ঞান তখনই আলো ছড়ায় যখন তা নিঃস্বার্থ আমল ও সামাজিক পরোপকারে রূপান্তরিত হয়।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

ঐতিহাসিক ও আত্মিক বাস্তবতার বিশ্লেষণ করে তিনি উল্লেখ করেন, যখনই মানুষ ঐশী নির্দেশনা ও কুরআনের শাশ্বত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই সমাজে অবক্ষয়, নীতিহীনতা ও অশান্তির বিস্তার ঘটেছে। মানুষ যদি মহান আল্লাহর কিতাবকে জীবন চলার প্রধান দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে, তবেই পার্থিব জীবনে যেমন সম্মান, নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি বজায় থাকে, তেমনি পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনেও পরম সাফল্য নিশ্চিত হয়। বিপরীতে, কুরআনের দেখানো মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক পথ পরিহার করলে গোটা সমাজ পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং মানবজাতি নানাবিধ বিপর্যয় ও বালা-মুসিবতের সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়।

সম্মেলনে কুরআন চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়িত্বশীলদের বহুমুখী ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও জনপদে কুরআন শিক্ষার সহজ ও সাবলীল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যেন সব বয়সের মানুষ নির্দ্বিধায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারেন। সমাজ সংস্কার ও নৈতিক জাগরণের জন্য কুরআনের সঠিক দাওয়াত তৃণমূলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই সমকালীন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে সভায় একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।

সূত্র: তা’লীমুল কুরআন বিভাগ দায়িত্বশীল সম্মেলন কার্যবিবরণী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন