প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আধুনিক অবকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কারিগরি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সার্বিক পরিবেশগত সমীক্ষা (Environmental Impact Assessment) সম্পাদনের লক্ষ্যে নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সংরক্ষিত নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকা পরিদর্শন করেন তাঁরা। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমানা পর্যবেক্ষণ করেন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার পরীক্ষার স্বার্থে মাটি ও পানিসহ প্রয়োজনীয় পরিবেশগত নানা উপাদানের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন: শাহজালালে ৪ অভিযানে ৪৩ লাখ টাকার স্বর্ণ, ওষুধ ও মদ জব্দ, আটক ৪
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম
পরিবেশ অধিদপ্তরের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম। তাঁর সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহিন আলম এবং নমুনা সংগ্রহকারী মাহিন মন্ডলসহ দপ্তরের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে বিশেষজ্ঞ দলটি পুরো নির্ধারিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসের ভূতাত্ত্বিক গঠন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আশেপাশের জীববৈচিত্র্য, জলাশয়ের অবস্থা এবং অবকাঠামোগত সম্ভাব্যতার সাথে পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টি নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করেন। সংগৃহীত নমুনাগুলোর রাসায়নিক ও পরিবেশগত মান পরীক্ষার পর পরিবেশ ছাড়পত্রের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ক্যাম্পাস দৃশ্যমান হওয়ার পথে নতুন গতি
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের এই স্থান পরিদর্শন এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ক্যাম্পাস দৃশ্যমান হওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন গতির সঞ্চার হলো। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই দ্রুততম সময়ে মূল ভৌত অবকাঠামো ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য এই বিদ্যাপীঠের স্থায়ী ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে তা উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্টজনেরা।
সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর।