ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

দেশের সাধারণ মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ কল্যাণে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও যুগান্তকারী উদ্যোগের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

পাকুন্দিয়ায় পোনা অবমুক্ত ও জনসমাবেশে বক্তব্য

রবিবার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নির্দিষ্ট ঘাটে উপস্থিত হয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানমঞ্চে আগমন করলে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা তুমুল করতালির মাধ্যমে সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

আরও পড়ুন: শাহজালালে ৪ অভিযানে ৪৩ লাখ টাকার স্বর্ণ, ওষুধ ও মদ জব্দ, আটক ৪

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকারের মূল লক্ষ্য একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৃণমূলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ নানাবিধ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।" তিনি সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেশের জনগণ যে দলের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা বজায় রাখতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপি অতীতেও সবসময় জনগণের অধিকারের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ সরকার কখনো গ্রহণ করবে না।

বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন পদক্ষেপই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট তৈরিতে মূল ভূমিকা রেখেছে। তবে এই সংকট থেকে স্থায়ী উত্তরণে সরকার কাজ করছে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা আগামী ১০ বছরের মধ্যে টেকসইভাবে সমাধানের লক্ষ্যে এক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করবে সরকার।

বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধের আহ্বান

দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের নাগরিকদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাজপথে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রত্যক্ষ শিকার হয় দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।" তাই দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্রকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার অনুরোধ জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ক্রিয়েটরদের জন্য এআই সহকারীযুক্ত নতুন অ্যাপ আনল মেটা

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের মানুষ আজ কেবল শান্তি, নিরপেক্ষ আইনের শাসন, টেকসই কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশা করে। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ধৈর্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন