ব্রেকিং নিউজ

গাজায় লাশের স্তূপ ও তীব্র কবর সংকট: স্বজনের কবরেই হচ্ছে নতুন দাফন

গাজায় লাশের স্তূপ ও তীব্র কবর সংকট: স্বজনের কবরেই হচ্ছে নতুন দাফন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: সিরাজুল ইসলাম / শাহজাদপুর / প্রান্ত বাংলা নিউজ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বিমান ও স্থল হামলায় প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। মৃত্যুর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলটিতে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন ও হৃদয়বিদারক মানবিক সংকট। নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় গাজাজুড়ে মরদেহের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করা বা দাফনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক রূপ নিয়েছে যে, নতুন কবরের স্থান না পেয়ে স্বজনদের বাধ্য হয়ে পুরোনো কবরের মাটি খুঁড়েই পুনরায় নতুন মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সব বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতি জরুরি: সিইসি

সম্প্রতি এমনই এক মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন ওমর আল-সাওহি নামের ২০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি তরুণ। যুদ্ধে নিজ পিতাকে হারানোর পর পুরো এলাকা ঘুরে কোথাও নতুন কবরের ন্যূনতম জায়গা খুঁজে পাননি তিনি। অবরুদ্ধ উপত্যকায় লাশের স্তূপ ও সার্বিক সংকট বিবেচনায় কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রয়াত দাদার পুরোনো কবরের মাটি খুঁড়েই পিতা মোহাম্মদের মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হন তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার প্রতিটি শোকাহত পরিবারের জন্য এই চিত্র যেন এক নিত্যদিনের চরম নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার অধিকাংশ কবরস্থান ধারণক্ষমতার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তার ওপর সংঘাতের পুরো সময়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অঞ্চলটির ৪০টিরও বেশি ঐতিহাসিক ও স্থানীয় কবরস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের পরিসংখ্যান পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে; যুদ্ধের সূচনালগ্নে যেখানে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৬০টি কবর ছিল, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে প্রায় ৬ হাজার নতুন কবর।

আরও পড়ুন: প্রস্তাবিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’-এ যুক্ত হতে ঢাকার আগ্রহের কথা জানালেন হুমায়ুন কবির

কেবল জায়গার সংকটই নয়, কবর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ও কাঁচামালের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র সংকট দাফন প্রক্রিয়াকে অসম্ভব করে তুলেছে। সিমেন্ট, মার্বেল বা যথাযথ ফলকের অভাবের কারণে স্বজনরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ইট-পাথরের টুকরো, কাদা কিংবা ফেলে দেওয়া টিনের চাদর ব্যবহার করে প্রিয়জনের কবরের নিশানা চিহ্নিত করে রাখছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, জীবদ্দশায় আশ্রয়ের সংকটে ভোগা ফিলিস্তিনিরা মৃত্যুর পরও একখণ্ড শান্তির জায়গা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা আধুনিক সভ্যতার ইতিহাসে এক চরম মানবিক ট্র্যাজেডি।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য মানবাধিকার ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রান্ত বাংলা নিউজে আপনাকে স্বাগতম। মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখুন। কোনো প্রকার অশালীন, হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন